শিল্পী রিয়াদ হায়দারের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা ও ঈদ উৎসব

19420754_19731016862817মাহবুব মাসুমঃ জাপানের টোকিও থেকে : আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশেই জাপানে মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ উদযাপিত হয়েছে। প্রবাস জীবনে নানা প্রতিকূলতার মাঝে দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দে মেতে উঠে মুসলিমরা। তবে এবারের ঈদ উৎসবে অন্যান্য বারের চেয়ে আনন্দের মাত্রা একটু বেশি ছিল। কারণ সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববারে জাপানে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এ উৎসবে জাপানের মুসলিমদের পাশাপাশি বিভিন্নদেশের মুলিমরা ঈদের নামাজের পর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
19510109_1973101682948422_2164722012937793963_nজাপানে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মধ্যে টোকিওর পাশে সাইতামা সিটির গামোতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টোরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট কবি,সুরকার শিল্পী রিয়াদ হায়দারের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়।শিল্পী রিয়াদ হায়দারের সাথে কয়েকটি যৌথ গানে অংশ নেয়
দিশারী শিল্পী গোষ্ঠী ও জাপানের ক্ষুদে সাইতা সাকুরার শিল্পীরা। ময়িনুর রহমান ও সাংবাদিক আতিকুর রহমানের যৌথ উপস্থাপনায় ব্যতিক্রমী এই ঈদ উদযাপন উপস্থিত প্রবাসীদের আনন্দের মাত্রা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।অনুষ্টানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গাড়ি ব্যবসায়ী এটিএম মিছবাহুল কবির।
অনুষ্ঠানে শিল্পী রিয়াদ হায়দারের নিজের লিখা,সুর করা বেশ কিছু গানে উপস্থিত শ্রোতাদের বিমোহিত করে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন জাপান। ভিডিওঃ https://www.facebook.com/japanbanglanews/videos/1972921289633128/
প্রতিবছর ঈদ আসে প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। এ উৎসবে মুসলমানরা নিজেদের মধ্যকার উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ ভুলে বুকে বুক মিলিয়ে ধুয়ে মুছে ফেলে অতীত দিনের সকল মনমালিন্য। ঈদ আসে বছরের দু’বার রমযানের শেষে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে ‘ঈদ-উল ফিতর’ বা রোযার ঈদ আর যিলহজ্জের দশ তারিখে ত্যাগের মহিমায় হাজার-হাজার বছরের ঐতিহ্যকে উদ্ভাসিত করে অনুষ্ঠিত হয় ‘ঈদ-উল আযহা’ বা কুরবানীর ঈদ। নতুন পোশাক আর আতর গোলাপ মেখে নামাজের জন্য তৈরী হয়ে থাকি। পবিত্রতায় পরিপূর্ণ মুসলিম সমাজের এই ঈদ আনন্দ। সাধ্যানুযায়ী পবিত্র হয়ে প্রতিজন মুসলিম ছুটে চলে ঈদগাহের পানে। সেখানে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে তাদের পরম প্রিয় প্রভু বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ তা’আলার প্রতি পরিপূর্ণ ভালবাসা, বিনয়ে এবং ভয়ে। প্রতিটি ঈদের নামাযই ঈদের চূড়ান্ত ক্ষণ। আনন্দের ভাগাভাগিতে মেতে উঠে মুসলমানরা। কিন্তু প্রবাসে মাঠে নামাজের সেই আনন্দ পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট সংখ্যক মসজিদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী নামাজ পড়া হয়।
বরাবরই প্রবাসীদের ক্ষেত্রে ঈদের এই আনন্দ ভাগাভাগি থেকে অনেকে বঞ্চিত থাকে।পরিবার পরিজন ছেড়ে ঈদের আনন্দ খানিকটা অপূর্ণতা থেকে যায়। অনেকে আনন্দ খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন প্রবাসী কোন আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিত মুখদের সাথে সাক্ষাৎ করতে। অবশ্য যারা স্বপরিবারে প্রবাসী তাদের ব্যাপারটা কিছুটা ভিন্ন। তবে কখেনোই পরিপূর্ণ স্বদেশী সুখ নেই। কেননা বৃহৎ পরিবার, আজন্ম দেখা প্রতিবেশী ও স্বজনদের থেকে দূরত্ব সে সুখের একটা বিরাট অংশ কেড়ে নিয়েছে। একটা নতুন জামা কিনে দেয়ার পর সন্তানের মুখের যে হাসি, একাকী পৃথিবীর আর কোথায় তা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।
মনে পড়ে, ছেলেবেলায় নতুন জামা পাবার একটা মৌসম ছিল ঈদ। কিন্তু প্রবাসে সে সবের কথা মনে থাকে না, প্রয়োজন হলে নতুন কেনা হয়। ঈদের দিন মাথার উপর গুরুজনের বুলানো হাতের স্পর্শ কত অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা যাবে? ছেলে বেলায় গুরুজনদের সালাম করে পকেট ভারী করার পাওনাটা আজো অসামান্য মনে হয়। আনন্দিত প্রহরগুলোতে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার আনন্দ ভাষায় বা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তারপরও প্রবাস জীবনে-দেশে-বিদেশে সবার জীবনই হোক আনন্দময়।
মাহবুব মাসুমঃ জাপান প্রবাসী সাংবাদিক

 
 

Send Comment