ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে হাসিনা দেশ বিক্রি করেছেন : খালেদা

স্বয়ং পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নাকি জানতেন না কি কি চুক্তি করা হবে !! কয়টা চুক্তি !!! তাহলে জানেন কে???Time Television’s live video. https://www.facebook.com/timetvusa/videos/1430671210297533/
17861852_1887431184871547_7334685896642936510_nআজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করেছেন দাবি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন। আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্নে সে এরমধ্যে অনেক কাজ করেছে। এখন এদেশের সে কিছুই রাখেনি, সবই বিক্রি করেছে। বাকি যেটুকু আছে বোধহয় সেটাও বিক্রি করে আসবে। শনিবার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নূরুল আলম নূরুর বিধবা স্ত্রী সুমী আখতার, মেয়ে উম্মে হাবিবা মীম, দুই ছেলে নাঈমুল আলম ও নুবায়েত আলমসহ পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে বিএনপি চেয়ারপারসন এ দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, পৃথিবীর ইতিহাস বলে- দেশ বিক্রি করে কেউ রক্ষা পায়নি। শেখ হাসিনাও পাবে না। যখন মানুষ জেগে উঠবে তখন যাদের কাছে দেশ বিক্রি করেছেন তারাও বাঁচাতে আসবে না।
17796626_1886954501585882_6008627857761930526_nইতিমধ্যে দেশের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। মানুষ শুধু সময়ের অপেক্ষা করে আছে কখন তারা রাস্তায় বেরুবে। এই অন্যায়-জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াবে- এটা সময়ের ব্যাপার। বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, র‌্যাবের যে ঘটনা বেরিয়েছে, সেটা যদি দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন কীভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। শুধু র‌্যাব তো নয়, আরো বহু বাহিনী বানিয়েছে, কী কী সব।
এনটিভি, এসএ টিভি, এটিএন, নিউজ টুয়েন্টি ফোর, যমুনা, মাছরাঙ্গা, দেশ টিভি, মাইটিভি, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোর, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, গাজী টিভি, এশিয়া টিভি, বৈশাখী টিভি, চ্যানেল আই, বাংলা ভিশন, দীপ্ত টিভিসহ কয়েকটি টিভির টকশো’য় অংশ নেয়া বিশিষ্টজনদের বক্তব্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা যায়। আলোচকরা যেমন প্রতিবেশী দেশ ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন; তেমনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সুবিধাবাদী চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেন। দেশের স্বাতন্ত্র্যতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, দেশপ্রেমী সেনাবাহিনী, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সঙ্গে শত্রæতা নয়’ নীতি অনিশ্চয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দু’চারজন আলোচক ভারত পরীক্ষিত বন্ধু দাবি করলেও অধিকাংশ আলোচকই ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য ভারত ৪৫ বছরেও বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে পারেনি। বরং বাংলাদেশের রাজনীতিকদের নতজানু মানসিকতার সুযোগ নিয়েছে ভারত। আর কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা নরেন্দ্র দমোদর দাস মোদী’র চাতুর্যপনাকে বিশেষ সম্মান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বক্তারা কোনোভাবেই তিস্তা চুক্তির সঙ্গে অন্য কোনো চুক্তিকে মেলাতে রাজি নন। তাদের বক্তব্য তিস্তার পানি আমাদের পাওনা। ২০১১ সালে নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তির কাগজপত্র চূড়ান্ত ছিল। ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এসে অচিরেই তিস্তা চুক্তির প্রতিশ্রæতি দেন। তারপরও তিস্তা ঝুলিয়ে রাখা বন্ধুত্বের কোনো নিদর্শন হতে পারে না।
দেশ গড়ছে এমন যত রাজনৈতিক ভালো ভালো ছেলে-পেলে আছে, যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিতে পারবে, দেশের মানুষের সেবা করতে পারবে, তাদের বাছাই করে হত্যা করা হচ্ছে; যাতে দেশটা দুর্বল হয়ে থাকে, পঙ্গু হয়ে থাকে। অন্যায় করলে যাতে কেউ প্রতিবাদ করতে না পারে। সেই সব ছেলে-পেলেকে বেছে বেছে র‌্যাব খুন করছে, হত্যা করছে। এসবের পেছনে একটা বড় পরিকল্পনা রয়েছে। হাসিনার আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতা নূরুকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ এবং হাসিনার হাতে মানুষ রক্তে রঞ্জিত। হাসিনা প্রতিনিয়ত দেশের মানুষকে খুন করছে, হত্যা করছে। সে (হাসিনা) ভাবতে পারে না, জনগণ হয়তো জানতে পারে না, উপরে একজন আছেন যে, তিনি সব দেখছেন, সব জানেন। সময়মতো তিনি ঠিকই বিচার করবেন। খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনার হাত রক্তে রঞ্জিত। অবশ্যই একদিন তাকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। রক্ত কখনো বৃথা যায় না। শেখ হাসিনার বিচার এদেশের মানুষ এদেশের মাটিতেই করবে। খালেদা জিয়া বলেন, নূরুসহ যারা স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গুম, খুন হয়েছেন তাদের পরিবারকে জাতীয়তাবাদী শক্তি সহযোগিতা করবে। তাদের পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করবে বিএনপি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, প্রথমত এ সফরে বাংলাদেশের বড় প্রত্যাশাই পূরণ হয়নি। তিস্তার পানি বণ্টনে চুক্তি হয়নি, এটা দেশবাসীর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা বা চাওয়া ছিল। দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ-ভারত যে ট্রেড ইমভেলেন্স বা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তা নিরসনে ঢাকার তরফে পাটের এন্টি ডাম্পিং এবং তৈরি পোশাকের শুল্ক প্রত্যাহার-এ দু’টি বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। শীর্ষ বৈঠকে আলোচনায় এ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার মিলেনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে ঢাকা-দিল্লি যেসব চুক্তি এবং সমঝোতা সই হয়েছে তার প্রায় সবই ভারতের অনুকূলে দাবি করে ওই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক বলেন, ওই সব চুক্তি-সমঝোতায় বাংলাদেশের তেমন প্রাপ্তি নেই। কলকাতা-খুলনা ট্রেন সার্ভিস, বঙ্গবন্ধুর নামে সড়ক, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর হিন্দি সংস্করণ প্রকাশ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী ভারতীয় শহীদ সেনাদের পরিবারের প্রতি সম্মাননা জানানোর আয়োজনকে অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত বলে প্রশংসা করেন তিনি। প্রতিরক্ষা সমঝোতা স্মারক সই হওয়া প্রসঙ্গে ড. রেহমান বলেন, এ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আগেও ছিল। এখন এটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসা হলো। প্রতিরক্ষা বিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো সমঝোতার বিষয়ে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তার বাইরে গোপন কিছু আছে কি-না জানি না। প্রতিরক্ষা খাতে ৫০ কোটি ডলারের যে ঋণ সংক্রান্ত সমঝোতা সই হয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ঋণে ভারত থেকেই অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জামাদি কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বলা হয়েছে বাংলাদেশ তার প্রয়োজন হলেই কিনবে। তিস্তাকে বাদ দিয়ে অন্য নদীর পানি বণ্টনের আলোচনার যে প্রস্তাব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দিয়েছেন সেই প্রসঙ্গ টেনে ওই বিশ্লেষক বলেন, মমতার ওপর আস্থা রাখা যায় না, এটা মমতা নিজেই আবার প্রমাণ করলেন। তিস্তা নিয়ে এখন আমাদের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। ভারতের সংবিধানের ২৫৩ অনুচ্ছেদ মতে, যেকোনো দেশের সঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার যেকোনো চুক্তি করতে পারে। এখন বিষয়টি নিয়ে মমতা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আমাদের দরকষাকষি বাড়াতে হবে। সংবিধান প্রদত্ত ওই ক্ষমতাবলে কেন্দ্র যেন চুক্তি সইয়ে রাজি হয় সে জন্য দরকষাকষি করতে হবে। আর এভাবেই আমাদের ন্যায্য পাওনা তিস্তার পানি আদায় করতে হবে।
প্রতিক্রিয়া নিয়েছেন মিজানুর রহমান।
তিস্তা হলো উত্তরবঙ্গের প্রাণ। একে কেড়ে নেয়া যাবে না (ক্যান নট বি টেকেন অ্যাওয়ে)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা শেষে এভাবেই গতকাল নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বার্তা সংস্থা এএনআই’র খবরে বলা হয়, মমতা বলেছেন, তিস্তায় খুব সামান্য পানি আছে। এটা আমাদের, উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন বা প্রাণ। তবে আগের দিনের মতো তিনি এদিনও অন্য নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানির চাহিদা মেটাতে অন্য নদীগুলোর পানি বণ্টন করা যেতে পারে। মমতার ভাষায়, ‘আপনাদের সমস্যা হলো পানি নিয়ে, তিস্তা নিয়ে নয়। আপনাদের এ সমস্যা মেটানোর জন্য অন্য যেকোনো বিকল্প প্রস্তাবের বিষয় মাথায় নেব স্বেচ্ছায়। আমরা যা করতে পারি তা হলো, এখানে (ভারত-বাংলাদেশ) আরো অনেক নদী আছে। সেখান থেকে আমরা পানি ব্যবহার করতে পারি’।
শনিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজের ফাঁকে। বৈঠক শেষে মমতা নিজেই সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা মমতার কাছে তিস্তার পানিসহ পানির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তবে মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিস্তার পানি দেয়া একরকম অসম্ভব।

 
 

Send Comment