হোলি হিন্দি সংস্কৃতি, হিন্দু সংস্কৃতি নয়, বাঙলার তো নয়ই

17309792_1307302692688568_240683543487688155_nPinaki Bhattacharya
ধর্ম থেকে যদি আপনি উৎসবকে আলাদা করতে যান তাহলে উৎসব থেকে স্পিরিচুয়ালিটি হাওয়া হয়ে যায়। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এই আপ্তবাক্যের বিপদ এখানেই।
হোলি কখনো বাঙলার উৎসব নয়। হোলিকা রাক্ষসী আর রাসলীলার গালগল্প বাঙলা কখনো গ্রহণ করেনি। বাঙলা দোল পুর্নিমা দিয়ে বসন্তকে বরণ করতো। এই দোল পুর্নিমার এক অসাধারণ দার্শনিক তাৎপর্য আছে।
বসন্তে প্রকৃতি রঙ এ সাজে, মানুষ তো প্রকৃতির অংশ। তার রঙ কোথায়? তাই সে নিজেকে রঙ এ রাঙিয়ে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা অনুভব করে। দোল পুর্নিমা এই একত্বের অনুভুতি দেয়।
17202843_267550913693820_48564518673946883_nহোলি হিন্দি সংস্কৃতি, হিন্দু সংস্কৃতি নয়, বাঙলার তো নয়ই। এটা আমাদের দেশে এসেছে আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে। হিন্দি সিনেমার হোলি দৃশ্যের ছ্যাবলামি সহ। সিলসিলা সিনেমায় সিদ্ধি খেয়ে অমিতাভের রেখার সাথে ছাবল্যামো বাঙালি মধ্যবিত্তের আইকন হয়ে উঠেছে। যে নিজে কিছুই হয়ে উঠতে পারেনি সে এক বোতল কালি নিয়ে নিজেকে অমিতাভ আর পথ চলতি নারীকে রেখা ভেবে নিয়েছে।
আরে বেকুব, তুই কিছুই হইতে পারিস নাই। মাঝখানে নিজের সংস্কৃতি হারাইয়া শিখছিস ছ্যাবলামো।
হোলির নামে বখাটেদের লাম্পট্য আর নারী নিগ্রহের নিন্দা জানাই। হিন্দু ধর্মের ধর্মগুরুদের আহবান জানাই বাঙলার সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কহীন হোলির বদলে দোল পুর্নিমার মহৎ আদর্শকে উদযাপনের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়কে উদ্বুদ্ধ করুন। পুর্ন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে দোল পুর্নিমা উদযাপন করুন। বখাটেপনা যেন ধর্মীয় উৎসবকে কলঙ্কিত না করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিন।
ফসিউল আলম লিখেছেন
17264888_1627390570623827_1953800815792360376_nপুরো পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে হিন্দু আধিপাত্য এলাকা হলো মালদা জেলা যেখানে পুরো শহরে আমি আমার এক ব্যবসায়ী বন্ধু সহ হেটেছি ঘুরেছি ও দাঁড়িয়ে উৎসবটা দেখেছিলাম কিন্তু দুই একজন এগিয়ে আসলে যখনই বললাম ভাই আমি মুসলমান ও এটি আমার ধর্মে নিষেদ তখনই তারা হাঁসি মুখে বলল, ওকে দাদা, দূঃখিত।”
অথচ আমার দেশ বাংলাদেশে হলির নামে এসব নোংড়ামি ও মেয়েদের অপমান করার কি মানে আছে?
এবার আরেকটি ঘটনা না বললেই নয়, কলকাতায় যমুনা সিনেমা হল যেখানে ছিল তার পাশে একটি মুসলিম হোটেল খালেক হোটেল, আমি সতের বছর আগে প্রথম যেবার কলকাতায় যাই তখন থেকেই এই হোটেলের একটি বিশেষ গরুর কাবাব পছন্দ করতাম ও তার জন্য সেখানে খেতাম, যা একটি বিশাল কড়ইয়ে চারদিকে বাহিরে পেঁয়াজ দিয়ে সাজিয়ে গরম কয়লার চুলাতেই রেখে বিক্রি করতো। কিন্তু গত বছর তিনেক আগে একবার গেলে তখনো তা দেখি নাই, এবারও দেখি নাই। তাই খালেক ভাইয়ের ছেলেকে জিজ্ঞাস করলাম এটি এখন করেন না কেন? উনি কিছুটা রাগের সাথেই বললঃ ভাই আপনাদের হিন্দুরা এখানে আসলে না কি এই গরুর মাংসের ধোঁয়ায় তাদের জাত যাইতো তাই তারা পুলিশকে কমপ্লিন করে এমন কি হেডাম ওয়ালা কয়জন মেয়রকেও লেখিত কমপ্লিন করে আর এই এলাকায় টুরিস্টদের কথা খুব ভালোভাবে চিন্তা করা হয় ফলে শেষে বন্ধ করতে হলো অথচ দেখবেন কলাকাতায় অনেক জায়গায়ই কাবাব এখনো বাহিরে হয় এমন কি আমাদের মমতাজি প্রকাশ্যে নিজেও গরু খেয়ে মুসলমানের সাথে সংহতি জানিয়েছিল। অথচ আপনাদের গুলি এত বজ্জাত কেন ভাই?
17342547_149828138872517_1204282456794650428_nআমার এর উত্তর জানা নাই, তাই শুধু বললাম কেমনে কমু ভাই?
তো হিন্দু ভাইদের বলবো, এত বাড়াবাড়িতে ক্ষতি আপনারা কিন্তু নিজেদেরই করছেন এটা ঠিক হচ্ছে না? মনে রাখবেন দালালের দিন খুব বেশি দিনের থাকেও না। (ফেবু থেকে)
**ভিডিও ভাইরাল https://www.facebook.com/ShahAhmedShaj/videos/1396539710404625/

 
 

Send Comment