দেশ ও ইসলামের পক্ষে লড়াই চলবে: সম্পাদক মাহমুদুর রহমান

16508843_1263243443752117_7720262015994343442_n“এ দেশে আমি রাজনীতি করতে পারবো না, এ দেশে আমার কথা বলার অধিকার থাকবে না। এ কোনো দেশে আমরা বাস করছি। এ অবস্থা কোনো ভাবেই চলতে দেয়া যায় না”
সদ্য কারামুক্ত দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিপ্লবী ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন ইসলামের জন্য, দেশের গণতন্ত্রের জন্য ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য যে লড়াই চালিয়েছি সেই লড়াই চলবে। চার বছর আগে যে আদর্শ বুকে নিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলাম আমি সেই আদর্শে এখনও অটল রয়েছি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো রকম ভয় দেখিয়ে, নির্যাতন করে আমাদের এ লড়াই কে দামিয়ে রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আদর্শ নিয়ে লড়াই করার হাতিয়ার আমার কাছে নেই। কারণ আমার দেশ পত্রিকা এখনও অবৈধ দখলদারিরা দখল করে রেখেছে। পত্রিকা ফিরে পেতে নিম্ন আদালতে মামলা করেছি।’

2017-02-07_144916মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ আমি উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি এ দেশেরই নাগরিক। কিন্তু এ দেশে আমার কোনো নাগরিক অধিকার নেই। আমার মতো নির্যাতিত মানুষ এ দেশে আর একজনও নেই। আমিই এ দেশের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত মানুষ।
তিনি বলেন, এ দেশে আমি রাজনীতি করতে পারবো না, এ দেশে আমার কথা বলার অধিকার থাকবে না। এ কোনো দেশে আমরা বাস করছি। এ অবস্থা কোনো ভাবেই চলতে দেয়া যায় না।

সুপিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারছি না উল্লেখ করে গণমাধ্যমেকে ডাক্তারের বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে তিনি বলেন, ডাক্তররাই আমাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রেফারেন্স করেছেন। কিন্ত সরকার ভাবছে আমি ইউকে চলে গেলে হয়তো দেশে ফিরে আসবো না। এজন্য আমার ভিসা প্রাপ্তীতে বাধা দিচ্ছে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাজ্য আমাকে ভিসা না দেওয়ার হাস্যকর কারণ জানিয়েছে। তারা বলেছে, আমি হয়ত আর ফিরে আসবোনা। কিন্তু আমার বয়স এখন ষাটের ওপরে। এই বয়সে আমি সেখানে গিয়ে থেকে যাবো? এমন মেরুদণ্ডহীন মানুষ আমি নই। আমি দেশে আদর্শের জন্য লড়াই করবো, বিদেশে গিয়ে বসে থাকবো না, আমি দেশের মানুষের পাশে থাকবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন আমার দেশ পত্রিকা অফিসে পোশাকধারী ও সিভিল প্রশাসন দিয়ে গৃহবন্দি ছিলাম তখনই আমি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক দেই। তখন বলেছিলাম, আমাদের আলাদা আইডেন্টিটি থাকবে। আমরা অন্যের সংস্কৃতির ধারক-বাহক হবো না। আমরা আমাদের সংস্কৃতিকেই লালন করবো। আমি গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম।’

16602766_1262795430463585_9038870156980018706_nআমার দেশ পত্রিকা ভারপ্রাপ্ত এ সম্পাদক বলেন, ‘আমি এখনও লেখালেখি করি কিন্তু কে ছাপবে আমার লেখা? আমার লেখা আমি লিখে যাচ্ছি। কিন্তু এক সময় নিশ্চয়ই ছাপবো। আমি ইতিহাস রচনা করে যাচ্ছি, এক সময় দেশের মানুষ জানবে আমি কি লিখেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বন্ধ প্রেস খুলে দেয়া সহ ভিসা দেয়ার জোড় দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কলামিষ্ট ফরহাদ মাজার, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গণি চৌধুরী, ইলিয়াস খান প্রমুখ।
উল্লেখ্য দীর্ঘ পোনে ৪ বছর বিনা বিচারে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন। গত ১৮ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন। এর পর থেকে অসুস্থতার কারনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর এটাই জনসমক্ষে তাঁর প্রথম বক্তব্য।
চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ থেকে। সে অনুযায়ী তিনি ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাজ্যের ভিসা অনুমোদনের দায়িত্বে রয়েছে জন্য বৃটিশ হাই কমিশনের দিল্লী অফিস। সেখান থেকে মাহমুদুর রহমানের ভিসা আবেদন প্রত্যাখান করা হয়।
দীর্ঘ পোনে চার বছরের কারাবন্দিত্ব এবং রিমান্ডে নির্যাতনের কারনে তিনি বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্ত হন। এসব রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে এখনো নাই বললেই চলে। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র ৩জন ডাক্তারের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সুপারিশ করেছিল। এর প্রেক্ষিতেই তাঁর পাসপোর্ট ফেরত দিতে সরকারের প্রতি নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এখানে ১৮ মিনিটের বক্তব্যে উঠে এসেছে তাঁর পত্যয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি।

 
 

Send Comment