খোঁজ খবর- অলিভিয়া এখন ব্যস্ত সংসার ও ধর্মকর্ম নিয়ে

59377_e1বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের তারকারা প্রেক্ষাগৃহের পর্দা থেকে আড়াল হয়ে গেলেও সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের মনের পর্দায় জ্বলজ্বল করছেন সব সময়। এদের সম্পর্কে সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহলেরও শেষ নেই। তারা কেমন আছেন, কোথায় আছেন- এমনটি জানার জন্য উদগ্রীব থাকেন সবসময়। হারানো দিনের তারকাদের নিয়ে মানবজমিন-এর সাপ্তাহিক আয়োজন ‘খোঁজ-খবর’। আজকের তারকা অলিভিয়া। তাকে নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন

 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যে সময়টাকে সোনালী যুগ বলা হয় সেই ৭০-৮০’র দশকের দর্শক হৃদয়ে ঝড় তোলা নায়িকার নাম অলিভিয়া। আকর্ষণীয় ফিগার, আর চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামার- দুয়ের সমন্বয়ে অলিভিয়া নিজেকে চলচ্চিত্রের স্বপ্নকন্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে এ অভিনেত্রীর মতো শারীরিক সৌন্দর্যের অধিকারী দ্বিতীয় কোন নায়িকা দর্শকদের চোখে আজও পড়েনি। ১৯৯০ সালে অলিভিয়া চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেন। তার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি কাজী কামাল পরিচালিত ‘লাখে একটা’ ১৯৯০ সালে মুক্তি পায়। তারপর থেকে অলিভিয়ার দেখা পাননি চলচ্চিত্রের অনেকেই। স্বামী এসএম শফির মৃত্যুর পর থেকেই তিনি চলচ্চিত্রবিমুখ। ঢাকাতেই আছেন। সংসার করছেন ফতুল্লার মুনলাইট টেক্সটাইলস মিলস-এর মালিক হাসানের ডিইওএইচএস’র বাড়িতে। ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নিয়ে এখন ব্যস্ত সংসার ও ধর্মকর্ম নিয়ে। চলচ্চিত্রের কারও সঙ্গে দেখা করেন না। চলচ্চিত্র নিয়ে কথাও বলেন না। তবে সমপ্রতি কিছু পত্রপত্রিকায় তাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল থাকায় ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন অলিভিয়া। তিনি তার একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধও জানিয়েছেন। অলিভিয়ার এই ঘনিষ্ঠজন পুরনো ঢাকার একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। তিনি জানান, অলিভিয়া অস্ট্রেলিয়া কিংবা আমেরিকাতে থাকেন বলে যে খবর ছাপা হয়েছে সেটা সঠিক নয়। অলিভিয়া কখনওই ওই দুই দেশে যাননি। তিনি ঢাকাতেই থাকেন। তবে তার বাবা ও ছোট ভাই থাকেন আবুধাবিতে। বড় ভাই অভি ও আরেক ভাই ফুটবলার জর্জি থাকেন ঢাকাতেই। অলিভিয়ার চার বোনের মধ্যে বড় বোন প্রক্সি থাকতেন কলকাতায়। ২০১১ সালে তিনি মারা যান। মেজোবোন অডিট ছিলেন বিমানের ক্যাবিন ক্রু। বর্তমানে আমেরিকায় থাকেন। ছোটবোন অলকা থাকেন কানাডায়। এসএম শফির মৃত্যুর পর অলিভিয়া শিল্পপতি হাসানকে বিয়ে করেন। কিন্তু শহীদ নামে একজনকে বিয়ে করেছিলেন বলে যে খবর ছাপা হয়েছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন অলিভিয়ার ওই ঘনিষ্ঠজন। অলিভিয়ার জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে। জন্ম তারিখ ১৬ই ফেব্রুয়ারি। শহীদ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ ছবির মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন। পরে অজানা কারণে তিনি এই ছবি থেকে বাদ পড়েন। তার জায়গায় চলে আসেন ববিতা। ১৯৭২ সালে এসএম শফির ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নায়িকা হন অলিভিয়া। এই ছবিতে তার সহশিল্পী ছিলেন রাজ্জাক ও শাবানা। অলিভিয়া তার অভিনয় জীবনে ২৬টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ছবিগুলো হচ্ছে ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘জীবন সঙ্গীত’, ‘দূর থেকে কাছে’, ‘টাকার খেলা’, ‘মাসুদ রানা’, ‘সেয়ানা’, ‘দি রেইন’, ‘বাহাদুর’, ‘আদালত’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘আগুনের আলো’, ‘পাগলা রাজা’ ‘শীষ নাগ’, ‘চন্দ্রলেখা’, ‘বেদীন’, ‘লুটেরা, ‘হিম্মতওয়ালী’, ‘ডার্লিং’, ‘শ্রীমতি ৪২০’, ‘একালের নায়ক’, ‘রাস্তার রাজা’, ‘শাহজাদী গুলবাহার’, ‘বুলবুল এ বাগদাদ’, ‘টক্কর’, ‘লাল মেমসাহেব’ ও ‘লাখে একটা’। অলিভিয়া হচ্ছেন বাংলাদেশের একমাত্র নায়িকা যিনি বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমার-এর সঙ্গে অভিনয় করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ছবির নাম ‘বহ্নিশিখা’।

 

 

 

 

 

সূত্রঃ মানব জমিন

 

 
 

Send Comment